• রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নড়াইলে জুনিয়র গলফ টুর্নামেন্টের  পুরস্কার ও গাছের চারা বিতরণ শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কালিয়ায় শাড়ি ও ধূতি বিতরণ।  ড. মুহাম্মদ ইউনূস পেলেন ‘হিলারি রোডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ বড়দিয়ার নদীভাঙন পরিদর্শনে সাংসদ জাহাঙ্গীর আলম, স্থায়ী নদী ভাঙ্গন রোধের আশ্বাস  অসহায় ও দরিদ্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ করেন সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালিব চুড়ামনকাটিতে স্কুলের পাশে মাদকের আড্ডা, প্রতিবাদ করায় শিক্ষককে হুমকির অভিযোগ  বিধবাকে কু-প্রস্তাব, স্থানীয় মাতব্বরের নামে থানায় অভিযোগ মিশরীয় মুরগির অভিনব প্রতারণা ! অবশেষে ডিবি ও সিসিআইসি ইউনিটের হাতে ধরা  এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নাজমুস সাকিব, স্বাধীন বাংলা নিউজ পরিবারের অভিনন্দন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক / ৩ Time View
Update : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধ, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান এবং রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসভবন থেকে বের হয়ে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেন। দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ (অপারেশন থিয়েটার) বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময়সীমা দেন তিনি।

হাসপাতাল পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের এই সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে পারে। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন এবং অনেকে মারা যান। এ রোগ মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রতিরোধ, যার জন্য বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।’তিনি আরও বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা সম্ভব।রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর, যেখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাঁদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই নগরী পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব শুধু সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিলে চলবে না; নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হও বা না হও, তোমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তোমাদেরও নিতে হবে।’

যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাকে সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন।প্রধানমন্ত্রী জানান, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক জায়গা থেকে এসব ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন বাড়াতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।তিনি বলেন, ‘তোমার জন্মদিনে, ভাইবোনের জন্মদিনে কিংবা নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ রোপনের চেষ্টা করবে। সেটা তোমার বাসায় হতে পারে, স্কুলে হতে পারে কিংবা গ্রামের বাড়িতে হতে পারে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে।’

রাজধানীতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং সবুজের পরিমাণ কমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। শৈশবের স্মৃতিচারণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। বর্তমানে সেখানে বহুতল ভবন গড়ে ওঠায় গাছপালা কমেছে এবং গরমের অনুভূতিও বেড়েছে।তিনি বলেন, ‘গাছ যত বাড়বে, আমরা তত বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব। গাছের পাতার ঝিরঝির শব্দ আমার খুব ভালো লাগে। আমরা সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।’

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং সবুজায়ন বাড়াতে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব।এ সময় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান, নিজেদের স্কুল, বাসা, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে তাঁরা সহযোগিতা করবে কি না। শিক্ষার্থীরা তাঁর আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দেয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা