দীর্ঘ ৩৪ দিন পর বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর জিম্মি দশা থেকে মুক্তিপণে মুক্তি পেয়ে সুন্দরবন থেকে বাড়ি ফিরে এসেছেন শরণখোলার দুই জেলে। ২৭ মে বুধবার বিকেলে তাঁরা নিজ বাড়ি ফিরে আসলেও এখনো ১০ জেলে জিম্মি রয়েছে তাদের আস্তানায়।
অপহৃত জেলেরা হলো উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের সগীর বয়াতি (৪০) এবং বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা সরোয়ার হোসেন (৩৮)। দস্যুদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থেকে শারীরিকভাবে অনেকটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারা। ওই বনদস্যুদের হাতে পাথরঘাটা এবং শরণখোলার আরো ১০ জেলে এখনও বন্দি রয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে জানা।
ফিরে আসা জেলেরা জানান, গত এপ্রিল মাসের ২৩/২৪ তারিখে তারা শরণখোলা ফরেস্ট রেঞ্জ অফিস থেকে মাছের পাশ করে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের বনের ছোট খাজুরা এলাকায় মাছ ধরতে যায়। সেখান থেকে একটি নৌকায় থাকা ছয় জেলের মধ্যে ছগির বয়াতী ও সরোওয়ারকে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে নিয়ে যায় সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা।
অপহৃতরা আরও জানান, দস্যুরা তাদেরকে দিয়ে দিনে রাতে নৌকা বাওয়াতেন।ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া ও ঘুম হতো না। বনদস্যুদের সাথে থাকা অবস্থায় তাঁরা সব সময় আতঙ্কগ্রস্থ ছিলো। জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রতিপক্ষ বন দস্যুদের হামলার আশঙ্কায় সব সময় ভয়ের মধ্যে ছিল তারা। সম্প্রতি বনদস্যু শরিফ বাহিনী ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে জাহাঙ্গীর বাহিনী অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে।
জাহাঙ্গীর বাহিনীর হাতে বর্তমানে তিনটি বন্দুক রয়েছে এ দিয়ে তারা দস্যুতা চালাচ্ছে। জেলেরা আরো জানান, বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীকে তারা চাঁদার টাকা পরিশোধ করলেও পুনরায় বনে গেলে তাদেরকে অপহরণ করে দস্যুরা। সুন্দরবনের মাছ ধরার পেশা ছেড়ে দিবেন বলেও জানান অনেক জেলে।
এছাড়াও ডাকাতরা সময়মতো চাঁদার টাকা না পেয়ে জেলেদের উপরে চালায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এ অবস্থায় সুন্দরবনের মাছ ধরা জেলেদের পক্ষে ভবিষ্যতে সম্ভব হবে না বলে তারা মনে করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সুন্দরবন সংলগ্ন সাউথখালী এলাকার বাসিন্দা ও তাফালবাড়ি স্কুল এন্ড কলেজের এক শিক্ষক বলেন জানান, বনদস্যুদের তাণ্ডবে শরণখোলার জেলেরা দিশেহারা প্রায়।
দস্যুরের চাঁদাবাজির কারণে এ অঞ্চলের জেলেরা ক্রমশ সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছে। সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ হলে দরিদ্র জেলে পরিবারগুলো খুবই আর্থিক সংকটে পড়বে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান দীর্ঘদিন সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা শরণখোলার দুই জেলে ফিরে আসার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া সুন্দরবনে বনরক্ষীরা দস্যুদের অবস্থান ও গতিবিধি লক্ষ্য রাখছেন এবং মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। র্্যাব, কোস্টগার্ড , পুলিশ ও বন রক্ষীদের সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অচিরেই সুন্দরবন দস্যু মুক্ত করা হবে।