• রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

তিন সন্তান ফেলে নগদ টাকা ও স্বর্ণ নিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে উধাও ব্যবসায়ীর স্ত্রী, ঝিনাইদহে তোলপাড়!

স্বাধীন বাংলানিউজ: / ৮ Time View
Update : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

ঝিনাইদহে ঘরে থাকা ৪ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ তিন সন্তানকে ফেলে স্বামীর কষ্টার্জিত লাখ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে প্রতিবেশী প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রথম স্বামীকে আইনিভাবে ডিভোর্স না দিয়েই ওই নারী কথিত বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
সর্বস্ব হারানো ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো: আল মামুন রুবেল (২৯) নিরুপায় হয়ে ঝিনাইদহ বিজ্ঞ আমলী আদালতে দুইজনকে আসামি করে একটি দণ্ডবিধি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন— কুমড়াবাড়ীয়া গ্রামের মো: কবির হোসেনের পুত্র মো: আবু সাঈদ (২৪) এবং বাদীর স্ত্রী মোছা: সুমাইয়া খাতুন (২৩)।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে কুমড়াবাড়ীয়া গ্রামের মো: রিপন হোসেনের মেয়ে সুমাইয়া খাতুনের সাথে আল মামুন রুবেলের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৮ বছর, ৪ বছর এবং মাত্র ৪ মাস বয়সী তিনটি পুত্র সন্তান রয়েছে। রুবেল ব্যবসার কাজে বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে প্রতিবেশী যুবক আবু সাঈদ সুমাইয়ার সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলে। এর আগে গ্রাম্য শালিসে আবু সাঈদ এই কাজ আর করবে না বলে মুচলেকা দিলেও গোপনে তাদের যোগাযোগ ও মেলামেশা চলতেই থাকে।
গত ২ মে (২০২৬) সকাল ১০টার দিকে স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে এই জুটি। ঘটনা জানাজানি হলে ওই দিনই বেলা ১১টার দিকে ঘরে গচ্ছিত রাখা ব্যবসায়িক মূলধন ও গরু বিক্রির টাকাসহ সর্বমোট ২,৭০,০০০/- টাকা নগদ এবং আনুমানিক ২,০০,০০০/- টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের অলঙ্কার নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
অভিযোগ উঠেছে, প্রথম স্বামীকে কোনো তালাক প্রদান না করেই সুমাইয়া খাতুন আবু সাঈদকে বিয়ে করে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস শুরু করেছে। গ্রামে একাধিকবার শালিসী বৈঠক হলেও তা সমাধান করতে ব্যর্থ হন মাতব্বররা।
বর্তমানে ভুক্তভোগী স্বামী আল মামুন রুবেল এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় আসামিদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের অব্যাহত অত্যাচার ও প্রাণনাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে আদালতে আরজি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার ২৫-২৬ দিন পর অভিযুক্তদের পরিবার তাদের গ্রামে ফিরিয়ে এনে একটি একপাক্ষিক শালিসের মাধ্যমে বিয়ের বিষয়টি জায়েজ করার চেষ্টা করে বলে ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তবে সম্প্রতি এই ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে।
ভুক্তভোগী রুবেলের বোন গণমাধ্যমকে জানান: কিছুদিন ধরে ভাবি (সুমাইয়া) আমাকে অনলাইনে নক করে কাঁদছেন। তিনি জানিয়েছেন, সন্তান ও সংসারের মায়ায় তিনি ভুল বুঝতে পেরেছেন। তাকে কোনো অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে এবং তিনি চরম বিপদে আছেন। ৪ মাসের ছোট শিশুটি অত্যন্ত অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাকে ডাক্তার দেখানো হচ্ছে না। এমনকি বাচ্চার চিকিৎসার জন্য আমার ভাইয়ের কাছে টাকাও চেয়েছিলেন তিনি। আজ আবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ওই যুবক ফোনটি কেড়ে নেয়। এরপর থেকে ভাবির আর কোনো খোঁজ মিলছে না।”
এই পরিস্থিতিতে সুমাইয়া খাতুন স্বেচ্ছায় পালিয়েছেন নাকি কোনো চক্রের ফাঁদে বা জিম্মিদশায় পড়েছেন, তা নিয়ে এলাকায় নতুন করে রহস্য ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী স্বামী ও তার পরিবার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার, সন্তানদের উদ্ধার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার নির্দেশ দিয়েছেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা