মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারেনা, ও বন্ধু….! কালো জয়ী শিল্পী ভূপেন হাজারিকার গাওয়া এই গানটি মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, মমতা ও মানবিকতা জাগ্রত করার অবিস্মরণীয় বার্তা বহন করে। বাগেরহাটে শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা ও শরণখোলা সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইতি আক্তার লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত।
তার কিডনি ট্রান্সফার করলে হয়তো সে জীবনে বেঁচে যেতে পারেন এমনটি আশ্বস্ত করেছেন ডাক্তার। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ইসমত আরা ইতি (১৬) যে বয়সে তার বই-খাতা আর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সেই তাকে লড়তে হচ্ছে মরণব্যাধি লিভার ক্যানসারের সঙ্গে। স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন দেখা মেয়েটি প্রায় চার মাস ধরে ঢাকার পিজি হাসপাতালের বিছানায়। একটাই ভয় কখন জানি তার কিছু হয়ে যায়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইতিকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে করাতে হবে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট। তার অপারেশনের সম্ভাব্য তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১৩ জুন। প্রথম ধাপে অপারেশনে ব্যয় হবে ৩০ লাখ টাকা। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে অসহায় হয়ে পড়েছে তার পরিবার। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক পোস্টে ইতি লিখেছেন— ‘আমি বাঁচতে চাই. জীবনে বেঁচে থাকার জন্য বড় সাধ ও ইচ্ছে হচ্ছে।
আমি আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকে ছেড়ে এত তাড়াতাড়ি পরপারে যেতে চাই না। কিন্তু আমার চিকিৎসা ব্যয় আমার বাবার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই দেশের বিত্তবান, সুধী, শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের কাছে সহযোগিতা কামনা করি। হয়তো আপনাদের সহযোগিতায় আমার ধারণা আমি জীবন দিতে পারি জীবন ফিরে পেতে পারি। যদি মহান আল্লাহ তা’আলা আমাকে হায়াত দিয়ে থাকেন।
তার এই আকুতি এখন ছুঁয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের হৃদয়। শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের নলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর তালুকদারের মেয়ে ইসমত আরা ইতি তার পোস্টটিতে আরও লিখেছেন, প্রতিদিনই তার ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে দিন কাটছে না জানি কখন কি হয়ে যায়। শরীর ধীরে ধীরে ভেঙে পড়লেও বেঁচে থাকার ইচ্ছাশক্তি এখনো তাকে সাহস জোগাচ্ছে। ইতির বাবা আলমগীর তালুকদার জানালেন, দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে তিনি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি ও ধারদেনা করে এতদিন চিকিৎসা চালিয়েছেন মেয়ের।
এখন লিভার ট্রান্সপ্লান্টের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা তাদের পক্ষে বহন করা আর সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য সবার সহযোগিতা চেয়েছেন অসহায় এই বাবা। স্থানীয়রা জানালেন, ইতি অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের একজন শিক্ষার্থী। সবসময় হাসিখুশি থাকা মেয়েটির জীবন বাঁচানোর জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্যের আবেদন জানাতে বাধ্য হচ্ছে পরিবার। তার সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীও ইতির চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
ইতির বড় বোন খুলনা সরকারি মহিলা কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সুখী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানালেন, আমার বোনটা বাঁচতে চায়। ও এখনো স্বপ্ন দেখে সুস্থ হয়ে আবার কলেজে যাবে। কিন্তু টাকার অভাবে যদি চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমরা তাকে বাঁচাতে পারব না। সে আরও জানায়, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপারেশন সম্পন্ন করতে না পারলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
তাই দ্রুত অর্থ সংগ্রহ করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বোনটিকে বাঁচাতে সবার দোয়া ও সহযোগিতা চাই। ইতির সহপাঠীরা মিলে ইতির চিকিৎসায় অর্থ সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু টাকা তুলে পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন। প্রতিদিনই তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন অর্থ সংগ্রহের জন্য। সবার সহযোগিতায় ইতি আবার তাদের মাঝে ফিরে আসবে এমন আত্মবিশ্বাস তাদের। ইতির সর্বশেষ আকুতি আমি আপনাদের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই আমাকে বাঁচান।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: অভিভাবকের বিকাশ নাম্বার ০১৭২২-৪৯৮৫৯৬ , সোনালী ব্যাংক রায়েন্দা বাজার শাখা, শরণখোলা ,বাগেরহাট। অ্যাকাউন্ট নাম্বার: ২৯১৩২০১০২৮০২২.