ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা ইউনিয়নের ঘাগা তালসার গ্রাম। এই গ্রামেরই এক চিলতে টিনের ঘরে এখন ঘোর অন্ধকার। যে মানুষটি একসময় রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে জীবনের চাকা সচল রাখতে ছুটে বেড়িয়েছেন হাটে-বাজারে, আজ সেই মানুষটিই হাসপাতালের বেড বা হুইলচেয়ার নয়, বরং চরম অসহায়ত্বের শিকলে বন্দি। সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে রতন অধিকারী এখন মৃত্যুর চেয়েও কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি।
মৃত কান্তি চন্দ্র অধিকারীর ছেলে রতন অধিকারী পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন। ফেরি করে বাদাম, পাপড় আর সোনপাপড়ি বিক্রি করে যে মানুষটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতেন, একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তার সেই কর্মক্ষমতা। আজ তিনি কেবল একটি পা-ই হারাননি, হারিয়েছেন বেঁচে থাকার আত্মবিশ্বাসও।
নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রতন অধিকারীর কন্ঠ বারবার কেঁপে উঠছিল। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন:
”মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে পাপড় বিক্রি করে যেটুকু আয় হতো, তাতেই আমার সংসার ভালো চলত। আমি ভিক্ষা চাইনি, পরিশ্রম করে খেয়েছি। আজ বিধাতা আমার পায়ের সাথে আমার ভাগ্যটাও কেড়ে নিলেন। একটা কৃত্রিম পা যদি পেতাম, তাহলে হয়তো আবারও কারো সাহায্য না নিয়ে পরিবারের হাল ধরতে পারতাম। আমার সন্তানদের মুখের দিকে তাকালে নিজের কাছে নিজেকে অপরাধী মনে হয়। আমার কি বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই?”
রতন অধিকারীর বর্তমান জীবনযাপন বর্ণনা করার ভাষা নেই। চিকিৎসার খরচ যোগাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। নিয়মিত প্রয়োজনীয় ওষুধ, কৃত্রিম পা সংযোজন কিংবা একটি সুস্থ জীবনের জন্য যে পুনর্বাসন প্রয়োজন, তা তার জন্য এখন আকাশকুসুম কল্পনা। স্থানীয়রা জানান, রতন একজন অত্যন্ত সৎ এবং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। তিনি কারো কাছে হাত পাততে লজ্জিত বোধ করেন, অথচ অভাব তাকে আজ বাধ্য করছে অন্যের করুণার ওপর বেঁচে থাকতে।
দেশ ও প্রবাসে বসবাসরত সকল সহৃদয়বান ব্যক্তি, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং বিত্তবানদের প্রতি আকুল আবেদন জানানো হচ্ছে—আসুন, আমরা রতন অধিকারীর এই ক্রান্তিলগ্নে তার পাশে দাঁড়াই। আপনাদের সামান্য সহযোগিতা হয়তো একজন মানুষের জীবনে নতুন ভোরের আলো নিয়ে আসতে পারে। একটি কৃত্রিম পা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অর্থ সংগ্রহ হলে তিনি হয়তো আবারও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারবেন।
সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা
মানবিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে যোগাযোগ করুন:
নাম: রতন অধিকারী
বিকাশ (পার্সোনাল): ০১৭৯৯-২৯২৩২০
একটি মানবিক উদ্যোগই বদলে দিতে পারে একটি পরিবারের ভাগ্য। আসুন, রতন অধিকারীর হারানো স্বপ্নগুলোকে পুনরায় জাগিয়ে তুলতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আপনার সামান্য অনুদানই হতে পারে তার নতুন করে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।