দল ও সরকারকে সম্পূর্ণ আলাদা সত্তা হিসেবে বজায় রাখার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ৯ মে বিএনপির কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই অবস্থান সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। মূল আলোচনার বাইরে গিয়ে দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান।
তবে দল হিসেবে বিএনপির কার্যক্রমে এর প্রতিফলন দেখা যায়নি গত তিন মাসে। বিশেষ করে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংস্কার ইস্যুতে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়ে সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকলেও দল হিসেবে বিএনপির যথেষ্ট কর্মসূচি ছিল না।
এছাড়াও জ্বালানি, হাম কিংবা শিশু ধর্ষণের মতো বিষয়ে সরকারের কার্যক্রম দৃশ্যমান হলেও অঙ্গসংগঠনের তৎপরতা ছিল শূন্যের কাছাকাছি। তাদের এই অবস্থানের ফলে কিছু ক্ষেত্রে সরকারকে নিয়ে ভুল ধারণার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিষয়গুলোতে নিজেদের দায় স্বীকার করে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বলছেন, ইতোমধ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাড়াতে পরিকল্পনা করছেন তারা।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্টার নিউজকে জানান, সরকারের বয়স কেবল তিন মাস। এই তিন মাসে রাজনৈতিক দল হিসেবে সরকারের কর্মসূচি কম ছিল তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বিরোধী পক্ষ থেকে বারবার যেই প্রোপাগান্ডাগুলো হচ্ছিল সেই বিষয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করে কর্মসূচি দেয়ার প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান জানান, প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল থেকে দলের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া এবং দলের সকল পর্যায়ের কমিটি যেন আরও শক্তিশালী হতে পারে এই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা দল ও সরকারকে আলাদা ভাবে দেখছেন না। তাদের দাবি জনগণের স্বার্থে কাজ করছেন বিএনপি সরকার।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘একটি সরকার এবং সরকারি দলের কার্যক্রমকে আলাদা করা খুব দুরূহ ব্যাপার। কারণ যারা নেতা তারাই মন্ত্রী, তারাই এমপি। তারপরও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম থেকেই চেষ্টা করছেন যেন সরকার এবং দলের কার্যক্রমকে পৃথক রাখা যায়।’
সরকার এবং দলের কার্যক্রমকে পৃথক রাখা আহ্বানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, সরকার যতই ইতিবাচক কাজ করুক বা জনকল্যাণমূলক কাজ করুক পার্টির কাজ কিন্তু সেগুলো জনগণের মধ্যে প্রচার করা। এর ফলে জনগণের মধ্যে একটা আবেগ তৈরি হবে। জনগণ মিডিয়ার মাধ্যমে সব কিছুই জানতে পারে। তারপরও যখন দলের লোকেরা বাসায় বাসায় গিয়ে একটা লিফলেট দেবে বা উঠান বৈঠক করবে এর মধ্যে দিয়ে মানুষ অনেক কিছু জানতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের পক্ষে মাঠের সমর্থন ধরে রাখার দায়িত্ব দলের। রাজনৈতিক কর্মসূচি কমে গেলে প্রভাব পড়বে আগামী নির্বাচনসহ দীর্ঘমেয়াদি জনসমর্থনে।
উচ্চতর সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, যারা সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী তারা কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এখন বিএনপি যদি রাজনৈতিক কর্মসূচি না চালায়, সে কিন্তু অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে পড়বে। সুতরাং আগামীতে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে হলে সমর্থন গোষ্ঠীকে সক্রিয় রাখতে হবে। সমর্থন গোষ্ঠী সক্রিয় না থাকলে সরকার থাকবে না। সমর্থন গোষ্ঠীকে সরকার সক্রিয় রাখে না বরং রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সক্রিয় রাখে।
নিকট অতীতের কিছু উদাহরণ, বিশেষ করে পতিত সরকারের অঙ্গসংগঠনের কথা মনে করিয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞানের শিক্ষকরা বলেছেন- সরকার দলের অঙ্গসংগঠনের ‘গা ছাড়া ভাব’ শুধু দল নয় সরকারকেও বেকায়দায় ফেলতে পারে। জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোতে নিজেদের তৎপরতা দৃশ্যমানের পরামর্শ তাদের।
সম্পাদক প্রকাশক : জাহাঙ্গীর হোসেন
বার্তা সম্পাদক মিশন আলী
প্রধান উপদেষ্টা : সহকারী অধ্যাপক আনিসুর রহমান
অফিস: ৯ নম্বর সেক্টর উত্তরা ঢাকা ।
যোগাযোগ : ০৯৬৫৮-১৩৩৬৩৪
স্বাধীন বাংলা নিউজ 24.com লিমিটেড কর্তৃক প্রকাশিত।