• শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্যের কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও শার্শায় ইউপি সদস্যসহ ৪ জন আটক,ইয়াবা ও মোবাইল উদ্ধার আব্দুল গফুর একাডেমীর ফল উৎসব ও ফল বিতরণ কোটচাঁদপুর পৌরসভার ৪৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা কালীগঞ্জে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান ঝিনাইদহে আর্জেন্টিনা- ব্রাজিল সমর্থকদের সংঘর্ষ , আহত ১ দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে কালীগঞ্জ থানা রোড কালীগঞ্জে কুকুরের কামড়ে আহত ৬, আতঙ্কে এলাকাবাসী বেগুন ক্ষেত থেকে ৭টি গাঁজার গাছ উদ্ধার, যুবক আটক দক্ষ সাংবাদিক তৈরির প্রত্যয়ে নবচিত্রে জার্নালিজম ইন্টার্নশিপ কোর্সের উদ্বোধন

হরিণাকুণ্ডুতে অবুঝ শিশুকে ফেলে ভাতিজার সাথে চাচির পলায়ন

স্বাধীন বাংলানিউজ: / ১৩৭ Time View
Update : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক দায়বদ্ধতা আর পাঁচ বছরের এক অবুঝ শিশুর আকুতি—সবকিছুকে আড়াল করে এক অলীক ফ্যান্টাসির টানে ঘর ছাড়লেন এক গৃহবধূ। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গবরাপাড়া গ্রামে আপন ভাসুরের ছেলের (ভাতিজা) সাথে চাচির এই অন্তর্ধানে শুধু একটি পরিবারই ভাঙেনি, বরং গ্রামীণ সমাজ বাস্তবতার এক চেনা অবক্ষয়ও নতুন করে সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন রাতের আঁধারে গবরাপাড়া গ্রামের সানজেদুর রহমান (ছল্টু) জোয়ার্দারের স্ত্রী রুমানা ইসলাম এবং তার আপন বড় ভাইয়ের ছেলে হাসান একসাথে নিখোঁজ হন। বেশ কয়েকদিন ধরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর যখন তাদের কোনো হদিস মেলেনি, তখন বাধ্য হয়েই পরিবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। এই ঘটনার পর থেকে ঘরে থাকা পাঁচ বছরের কন্যাসন্তানটি তার মায়ের জন্য ক্রমাগত কেঁদে চলেছে, যার কোনো সান্ত্বনা নেই পরিবারের কাছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন বা অনৈতিক সম্পর্কের গুঞ্জন এলাকায় নতুন ছিল না। গত ঈদুল ফিতরের পরেও তারা একবার ঘর ছেড়েছিলেন। সে সময় গ্রামীণ সালিশ ও মাতুব্বরদের সামাজিক চাপে সাময়িকভাবে বিষয়টির “সুরাহা” করে রুমানাকে সংসারে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু মনের ভেতরের যে শূন্যতা বা ভুল আকর্ষণের জন্ম হয়েছিল, কেবল বাহ্যিক শাসন দিয়ে যে তার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, এবারকার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সেটিই প্রমাণ করল।
ক্ষুব্ধ ও বিপর্যস্ত স্বামী সানজেদুর রহমান জানান, আট বছরের বৈবাহিক জীবনে তাদের একটি সন্তান রয়েছে। হাসান সম্পর্কে তার আপন ভাতিজা এবং সে রুমানাকে “মা” বলেই সম্বোধন করত। কিন্তু পারিবারিক নৈকট্য ও অসতর্কতার সুযোগে তারা এক সময় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সানজেদুর অভিযোগ করেন, গত ৯ জুন সুযোগ বুঝে রুমানা ঘরের আলমারি থেকে নগদ ৩ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে হাসানের সাথে ঘর ছাড়ে।
ছেলের এমন আচরণে লজ্জিত ও মর্মাহত হাসানের বাবাও। তিনি জানান, ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার একাধিক চেষ্টা সামাজিক নানা জটিলতায় ব্যর্থ হয়েছে। আপন ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে ছেলের এমন শাস্তিযোগ্য অপরাধ তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করছেন না। বর্তমানে হাসান ও রুমানা উভয়েরই মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনা প্রসঙ্গে দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এটি কেবল একটি পারিবারিক ঘটনা নয়, এটি আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের চরম ধস। লোকলজ্জা এবং নৈতিকতার এই অবক্ষয় রুখতে না পারলে সমাজ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।”
আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হরিণাকুণ্ডু থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা অসিত কুমার রায় জানান, লোকমুখে বিষয়টি তারা শুনেছেন। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আধুনিক যুগে বিনোদন মাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তৈরি করা এক অলীক রোমাঞ্চের ফ্যান্টাসিতে পড়ে অনেকেই বাস্তব জীবনের একঘেয়েমি থেকে বাঁচতে ভুল পথ বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু সেই রোমাঞ্চের অবসান যখন ঘটে, তখন পেছনে পড়ে থাকে শুধু ধ্বংস হওয়া পরিবার, সামাজিক স্তরের অবিশ্বাস আর একটি শিশুর আজীবনের মানসিক ট্রমা। কেবল আইনি শাস্তি বা সামাজিক সালিশ নয়, এই মহামারি থেকে বাঁচতে প্রয়োজন পারিবারিক স্তরে সুস্থ যোগাযোগ এবং মানসিক সচেতনতা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা