• মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
কালীগঞ্জে অপহরণের পর শিশুকে নির্যাতন, মৃত ভেবে কচুরিপানার নিচে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ মহেশপুরে ভোক্তা অধিকার আইনে ফার্মেসী মালিককে ৫০০ টাকা জরিমানা কালীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী’র মানবেতর জীবন যাপন একই চেয়ারে ৭ বছর! কালীগঞ্জ ইউএনও অফিসে যুথিকা বিশ্বাসের ‘একচ্ছত্র সাম্রাজ্য’ মুসলিম জাগরণের কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি যেন বিশ্বকাপের কোলাজ মাদকের খুচরা বিক্রেতা নয়, ডিলার ও গডফাদারদের গ্রেফতারের পরামর্শ সাংবাদিকদের ঝিনাইদহে ৫ কর্মদিবসে চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা দুই বছর পর শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান কার্যক্রম শুরু চুড়ামনকাটিতে আল আকসা জি এইচ ফাউন্ডেশনের সদস্য সম্মেলন ও সম্মাননা সনদ প্রদান যশোরে ইজিবাইক ছিনতাই মামলায় ৬ জন আটক

মুসলিম জাগরণের কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি যেন বিশ্বকাপের কোলাজ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : / ৪ Time View
Update : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের উম্মাদনা কেবল টেলিভিশনের চারকোনা পর্দায় কিংবা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা যেন আছড়ে পড়েছে ঝিনাইদহের এক শান্ত, সবুজ পল্লীতে। আর সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ‘মুসলিম জাগরণের কবি’ খ্যাত গোলাম মোস্তফার স্মৃতিবিজড়িত আদি বাড়ি। শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের এই ঐতিহাসিক বাড়িটি এখন ল্যাটিন আমেরিকার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে রঙিন। কবিবাড়ির এই অভূতপূর্ব রূপান্তর পুরো গ্রামকে বদলে দিয়েছে এক টুকরো ‘ফুটবল ভিলেজে’।
সরেজমিনে মনোহরপুর গ্রামে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে এক ভিন্নজগৎ। চারদিকে শুধু ফুটবল আর ফুটবল। রাস্তার দুপাশে উড়ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা, তবে মূল আকর্ষণ কবি গোলাম মোস্তফার বাড়ি। কবির বাড়ির মূল ফটক, কাচারিঘর, সবুজ আঙিনা, বসতঘর থেকে শুরু করে আশপাশের গাছপালা সবই এখন মুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ফুটবল আবেগে। একদিকে আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা, অন্যদিকে ব্রাজিলের সবুজ রঙের নান্দনিক দেয়ালচিত্র ও পতাকার দোল। দেয়াল আর বাঁশের খুঁটিতে শোভা পাচ্ছে লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র কিংবা কিলিয়ান এমবাপ্পেদের বিশাল সব প্রতিকৃতি। কোথাও আবার আঁকা হয়েছে কাঙ্ক্ষিত সোনালী ট্রফি।
ফুটবল আর ইতিহাসের এই অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কবিবাড়িতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুদের দলবল নিয়ে। মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকেই।
বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। কেউ প্রিয় দলের জার্সি গায়ে, কেউবা পতাকা কাঁধে জড়িয়ে মেতে উঠছে উৎসবে। স্থানীয়রা বলছেন, দলের সমর্থনে ভিন্নতা থাকলেও এই আয়োজন পুরো গ্রামের মানুষকে এক সুতোয় বেঁধেছে। এটি এখন আর শুধু ফুটবল উন্মাদনা নয়, বরং সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা।
ফরহাদ হোসেন নামে এক যুবক মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে বিশ্বাস করতে পারিনি। এখানে এসে মনে হচ্ছে কোনো বিদেশি ফ্যান জোনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্রামীণ আবহে এমন নান্দনিক আয়োজন সত্যিই চোখ জুড়িয়ে দেয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা সিজার জিকরুল জানান, “বিশ্বকাপ এলেই গ্রামে আনন্দ হয়, কিন্তু এবার কবিবাড়িকে কেন্দ্র করে যে সাজসজ্জা হয়েছে, তা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের আগমনে আমাদের গ্রামজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ।”
এই বর্ণিল উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন স্থানীয় একঝাঁক উদ্যমী তরুণ। কয়েক সপ্তাহের অক্লান্ত পরিশ্রমে তারা কবিবাড়ি ও আশপাশের এলাকাকে এভাবে সাজিয়ে তুলেছেন। তরুণ সংগঠক শাওন শ্রাবন ও শিহাব হোসেন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপের বৈশ্বিক আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে মাঠের খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করা। নিজেদের পকেটের টাকায়, নিজেদের পরিশ্রমে এই আয়োজন করেছি। দর্শনার্থীদের হাসিমুখ আর ভালোবাসাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
বিশ্বকাপের মাঠের লড়াই যত জমছে, মনোহরপুরের কবিবাড়িতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা ততই বাড়ছে। ফুটবল আর ঐতিহ্যের এই মেলবন্ধন যেন প্রমাণ করছে—খেলাধুলা শুধু মাঠের লড়াই নয়, তা মানুষের হৃদয়কে এক করার এক পিয়াসী মাধ্যম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা