• শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
যশোরে গৃহবধূকে যৌন নিপীড়ন, একদিকে থানায় মামলা অন্যদিকে বিএনপি নেতার মীমাংসা! ভুয়া প্রবেশপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও সহযোগী আটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রিন্স মামুনের দ্বিতীয় স্ত্রীর চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস যশোরে অবৈধ পার্কিং রোধে ট্রাফিক চলমান অভিযানে একটি প্রাইভেটকার ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ, ১০ মামলা শার্শায় ৭টি চোরাই মোবাইলসহ যুবক গ্রেপ্তার শার্শায় বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবক আটক কালিগঞ্জে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ কোটচাঁদপুরে জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া সরকারি বরাদ্দের বাইসাইকেল ফেরত দিলেন জামায়াত নেতা! যশোরে প্রতারণা মামলায় দুইজনের কারাদণ্ড শরণখোলায় স্কুল ফিডিং এর খাবার ডিম খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ হাসপাতালে ভর্তি

যশোরে গৃহবধূকে যৌন নিপীড়ন, একদিকে থানায় মামলা অন্যদিকে বিএনপি নেতার মীমাংসা!

স্বাধীন বাংলানিউজ: / ৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬

যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামে এক গৃহবধূকে রান্নাঘরে ঢুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়েছেন কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আইয়ুব হোসেন। শুধু তাই নয়, আপস-মীমাংসার নামে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনেরও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, ঘটনার তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কোতোয়ালি থানায় বুধবার রাতে মামলা রেকর্ড করেছে পুলিশ। মামলাটি হওয়ার পর কেন মামলা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও পুলিশকে শাসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মীও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজেই কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ জুন ভোর ৬টার দিকে তিনি নিজ বাড়ির রান্নাঘরে ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এ সময় আশপাশে কেউ না থাকার সুযোগে একই গ্রামের সালাম মিয়া গোপনে রান্নাঘরে প্রবেশ করে তাকে জাপটে ধরেন এবং যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেন। তার চিৎকার শুনে ঘরে থাকা স্বামী ও সন্তানরা ছুটে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। পরদিন ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সালাম মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকার একাধিক নারীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। সেসব ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও প্রতিবারই একটি প্রভাবশালী মহল তাকে রক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা না করে আপস-মীমাংসায় যেতে চাপ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আপসের নামে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে।

স্থানীয় বিএনপির একটি সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পরই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন। চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ নানা অত্যাচারে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। কালীগঞ্জ থানার এক ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা লুটের ঘটনাকেও ঘিরে তার নাম উঠে আসে। এছাড়া ডাকাতিয়া এলাকার ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সদস্য ইসলাম সরদারের ভাইপো হাসান হত্যার ঘটনার সঙ্গেও তার জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে । নানা অভিযোগের কারণে তাকে বিএনপির সভাপতির পদ থেকে স্থগিত করা হয়। তবে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। পদ ফিরে পেয়ে তিনি যেন ফের সাপের পাঁচ পা দেখেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী দাবি করে আপস-মীমাংসার কার্যক্রম শুরু করেন। যেকোনো সমস্যা হলেই নিজ উদ্যোগে তিনি এগিয়ে যান। আপস-মীমাংসার নামে অর্থবাণিজ্য করেন। এছাড়াও চরমপন্থী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে তার আঁতাত রয়েছে বলেও গুরুতর অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে ওই গৃহবধূর স্বামী বলেন, ঘটনা সত্য। তবে বিএনপি নেতা আইয়ুব হোসেন বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছেন। এলাকায় থাকতে হবে, এজন্যই তিনি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। এ বিষয়ে সালামের বক্তব্য নিতে বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, পুলিশের একটি টিম একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছে। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সালাম মিয়ার বিরুদ্ধে বুধবার সন্ধ্যায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় যে কেউ বাদীপক্ষকে প্রভাবিত করার বা মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, সেক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কাশিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুব হোসেন বলেন, দুই পক্ষের অনুরোধে তিনি শালিশ করেছেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের সম্মতিতে মীমাংসা হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে এর আগে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে পদ স্থগিত করা হয়েছিল। এবার তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় প্রতিপক্ষরা এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলে পাল্টা অভিযোগ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা