যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের সন্তান মেসবাহউর রহমান। মেধা, অধ্যবসায় ও গবেষণার মাধ্যমে তিনি আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক গবেষণার অঙ্গনে। জনস্বাস্থ্য, উন্নয়ন ও গবেষণা পদ্ধতি নিয়ে তাঁর ৬০টিরও বেশি গবেষণা ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
মো. মেসবাহউর রহমান বর্তমানে জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)-এর বায়োস্ট্যাটিস্টিক্স বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিপসম স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জনস্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত।
তাঁর প্রকাশিত গবেষণার মধ্যে বিশ্বখ্যাত The Lancet, Nature এবং Elsevier, Cambridge University Press, Oxford University Press, BioMed Central (BMC) ও Wiley-এর মতো আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সাময়িকী উল্লেখযোগ্য। গবেষণার বিষয়বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক মানের কারণে তাঁর কাজ গবেষক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গবেষণা, আলোচনায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম মেসবাহউর রহমানের উল্লেখযোগ্য গবেষণার মধ্যে রয়েছে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বায়োলজিক্যাল পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা।
২০২৩ সালে তাঁর এ-সংক্রান্ত একটি গবেষণা চীনা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন ও চীনা সিডিসির যৌথ সাময়িকী Biosafety & Health-এ প্রকাশিত হয়। গবেষণাটি পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন জনপ্রিয় গণমাধ্যমে আলোচিত হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনা Science-এর Phys.org বিভাগেও গবেষণাটি ফিচার করা হয়। এর মাধ্যমে তাঁর গবেষণাকর্ম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করে।
শ্যামনগর থেকে আন্তর্জাতিক গবেষণার অঙ্গনে মেসবাহউর রহমানের বেড়ে ওঠা যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামে। বর্তমানে যে এলাকায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত, সেই এলাকারই সন্তান তিনি। বেলেরমাঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং আমবটতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন তিনি।
এরপর যশোরের হামিদপুর আলহেরা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে গবেষণা ও শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে জনস্বাস্থ্য ও গবেষণা পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করেন। ধারাবাহিক গবেষণা ও একাডেমিক সাফল্যের পথ ধরে বর্তমানে তিনি নিপসমের বায়োস্ট্যাটিস্টিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একটি প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক গবেষণার অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন মেসবাহউর রহমান। তাঁর এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং যশোরের শিক্ষা, গবেষণা ও মেধাবী তরুণদের জন্যও একটি অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তাঁর গবেষণা ও অর্জনের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে দেশের জনস্বাস্থ্য ও গবেষণা ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।