এলাকার কালুর মাংসের দোকানের সামনে তখন বিকেলের ভিড়। মানুষজন যে যার মতো ব্যস্ত। ঠিক সেই সময় আচমকা সেখানে হাজির হয় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন এক নারী। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাকে আটক করেন ডিবির সদস্যরা। পরে তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ২২ গ্রাম হেরোইন।
আটক নারী সাথী খাতুন (৩২)। তিনি বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরবেড় পশ্চিমপাড়া এলাকার রবিউল শিকদারের মেয়ে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যশোর শহরের রেলগেট এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
ডিবি পুলিশের এসআই শিবু মন্ডল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে দেহ তল্লাশি করে হেরোইন উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। যশোর শহর থেকে শুরু করে শহরতলীর অলিগলি—এমন কোনো পাড়া, মহল্লা কিংবা গ্রাম খুঁজে পাওয়া কঠিন, যেখানে মাদকের কারবার নেই। অনেক জায়গায় এটি এখন আর গোপন কিছু নয়, বরং ওপেন সিক্রেট। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে যা ধরা পড়ছে, বাস্তবে তার পরিধি আরও বড় বলে দাবি সচেতন মহলের।
তাদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ও পরে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা, হত্যা, চাকরিচ্যুতি এবং পরবর্তী পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। মব সৃষ্টি করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও একাধিকবার ঘটেছে। ফলে রাতের টহল বা ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে অনেক ক্ষেত্রেই আগের মতো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
এই সুযোগেই যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বিস্তার লাভ করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।