পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার স্বরূপকাঠি বাসস্ট্যান্ডে ঢাকাগামী যাত্রীদের ডাকাকে কেন্দ্র করে যমুনা পরিবহনের কর্মচারীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে শ্রমিকদল নেতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শ্রমিকদল নেতারা হলেন পৌর শ্রমিকদলের সদস্য সচিব রাসেল , যুগ্ম আহবায়ক শামিম মৃধা ও শ্রমিক নেতা রাজুর বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে থানায় জিডির জন্য আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী মো.আব্দুস সালাম। লিখিত অভিযোগে আব্দুস সালাম জানান, তিনি স্বরূপকাঠি বাসস্ট্যান্ডে বিগত ৩০ বছর যাবদ কল ম্যানের কাজ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি যমুনা পরিবহনের কাউন্টারে কলম্যান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গত ১৯ মে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ঢাকারযাত্রী ডাকাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে তারা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও চড় মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। পরে বাসস্ট্যান্ড থেকে তাড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অভিযোগে উল্লেখিত নেতারা তাকে হুমকি দিয়ে পরবর্তীতে দেখে নিবে বলে জানান। এছাড়া আব্দুস সালাম বলেন পূর্বেও তিনি বেশ কয়েকবার মারধরের শিকার হয়েছেন।
গত( ২০মে)পরে তিনি নেছারাবাদ থানায় লিখিত আবেদন দিয়ে ঘটনার তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এ বিষয়ে শ্রমিকদল নেতা শামিম মৃধা বলেন, “আমি তাকে মারিনি। যাত্রী ডাকা নিয়ে সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করলে সত্য বেরিয়ে আসবে।” অপর অভিযুক্ত রাসেল হুমকী দেয়ার কথা স্বীকার করলেও ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
যমুনা পরিবহনের পরিচালক নান্টু বলেন, “আমার কলম্যান আব্দুস সালামকে আমার সামনে শ্রমিকদলের নেতারা মারধর করা হয়েছে। আমাকেও দেখে নেওয়ার হুমকি শ্রমিকনেতা রাসেল।” অন্যদিকে হানিফ পরিবহনের পরিচালক জাহিদ হাওলাদার বলেন, “যাত্রী ডাকা নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়েছে, তবে মারামারি হয়েছে কিনা আমি দেখিনি।” নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “যাত্রী ডাকাডাকি নিয়ে মারামারির একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”