বাগেরহাটের শরণখোলায় মহিমা বেগম (৪০) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধী নারীর ঘরে গভীর রাতে দেয়াল টপকে ঢুকে একদল দুর্বৃত্তের অস্ত্রের মুখে লুটপাট ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার ১০ জুন রাত ৩টার দিকে উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের মোল্লা বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা এলাকা বাসীর মধ্যে মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজাপুর গ্রামের মোল্লা বাড়িতে তিনজনের একটি সংঘবদ্ধ দল মুখোশ পরে বাড়ির দেয়াল টপকে ঘরে প্রবেশ করে পিস্তল দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে লুটপাট চালায়।
ওই বাড়ির বাসিন্দা সোবাহান মোল্লা জীবিকার তাগিদে ঝালমুড়ি বিক্রির কাজে বাইরে থাকায় ঘটনার সময় ঘরে ছিলেন তার বাকপ্রতিবন্ধী স্ত্রী মহিমা বেগম, মেয়ে মরিয়ম ও এক নাতি।
মেয়ে মরিয়ম অভিযোগ করে বলেন, রাতের দিকে ঘরের পেছন দিক দিয়ে দুইজন প্রথমে ঘরে ঢোকে। পরে দরজা খুলে আরও একজন প্রবেশ করে। তারা মাকে একটি পিস্তল দেখিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে, মারধর করে এবং কানের স্বর্ণের দুল নিয়ে যায়। এছাড়া ঘরে থাকা একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সেলাই মেশিন ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় কাউকে কিছু না বলার জন্য শাসিয়ে যায়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে না পারলেও বাকপ্রতিবন্ধী মহিমা বেগম ইশারায় তাকে ভয়ভীতি দেখানো ,শারীরিকভাবে নির্যাতন এবং তার কান ছিঁড়ে দুল নিয়ে যায়। এ সময় কান থেকে রক্ত পড়ার দৃশ্য দেখা যায়।
এ ঘটনার পর এলাকা বাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ বিষয়ে শরণখোলা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ শামিনুল হক বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি বলেন যে পিস্তলটি তাদের দেখানো হয়েছে ধারণা করছে সেটা খেলনা পিস্তল হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।