বিয়ের নামে ‘ডিজিটাল ফাঁদ’! প্রবাসীর ২৪ লাখ টাকা নিয়ে তরুণী লাপাত্তা, থানায় জিডি
স্বাধীন বাংলানিউজ:
/ ১৯
Time View
Update :
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
Share
প্রেমের জোয়ারে ভেসেছিলেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী যুবক সাদ্দাম হোসেন। কিন্তু সেই জোয়ার যে শেষ পর্যন্ত তাঁর পকেট ফাঁকা করে ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার ‘ডিজিটাল ডাকাতি’তে রূপ নেবে, তা হয়তো তিনি স্বপ্নেও ভাবেননি। বিয়ের রঙিন প্রলোভনে ফেলে এক প্রবাসীর নগদ টাকা, আইফোন, ল্যাপটপ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় সাড়ে ২৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের এক তরুণী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে।
টাকা ও উপহার ফেরত পেতে আইনি নোটিশ পাঠাতেই এবার প্রবাসীকে দেওয়া হচ্ছে প্রাণনাশের হুমকি। নিজের জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে অবশেষে কালীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী ওই যুবক। এমন ঘটনায় এলাকা জুড়ে রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
‘অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা সিঙ্গাপুর প্রবাসী সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় উপজেলার খামার মুন্দিয়া গ্রামের তকিব উদ্দিনের মেয়ে সোহানা খাতুনের। ভার্চুয়াল জগতের সেই আলাপ দ্রুত রূপ নেয় গভীর প্রেমে। প্রেমের সুবাদে ২০২২ সালে দুই পরিবারের মধ্যেও সখ্যতা গড়ে ওঠে, কথা ছড়ায় বিয়ে পর্যন্ত।
আর এই ‘বিয়ের মধুর সুযোগ’ পুরোদমে কাজে লাগায় তরুণী সোহানা ও তাঁর ভাই সোহেল রানা। পড়াশোনার খরচ, চাকরির ব্যবস্থা, দামি আইফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে সাদ্দামের পকেট থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় প্রায় ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রবাসী সাদ্দামও সরল বিশ্বাসে প্রেমিকার আবদার মেটাতে কোনো কার্পণ্য করেননি।
সাদ্দাম হোসেন জানান, দীর্ঘদিন সবকিছু ঠিকঠাক চললেও গত ২০২৫ সালের অক্টোবরের দিকে হঠাৎ করেই সোহানা ও তাঁর পরিবারের আচরণে ‘শীতল হাওয়া’ বইতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত ২২ মে দেশে ফিরে আসেন সাদ্দাম। দুই পরিবার মিলে বৈঠক করে গত রমজানের ঈদের দ্বিতীয় দিন বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করে এবং সেই অনুযায়ী কেনাকাটাও ধুমধাম করে শেষ হয়। কিন্তু নাটকের আসল দৃশ্যপট বাকি ছিল তখনও। বিয়ের কেনাকাটা শেষ হতেই সোহানার পরিবার হঠাৎ নানা অজুহাতে বিয়েতে বেঁকে বসে এবং সাদ্দামকে ‘প্রত্যাখ্যান’ করে।
পরবর্তীতে সাদ্দাম জানতে পারেন, তাঁর কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা হজম করে এখন সোহানাকে অন্য জায়গায় ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়ার জোর প্রস্তুতি চলছে। প্রতারণা বুঝতে পেরে টাকা ও মালামাল ফেরত চাইলে স্পষ্ট ‘না’ করে দেয় তরুণীর পরিবার।
টাকা ফেরত পেতে সাদ্দাম হোসেন বিদেশ থাকা অবস্থাতেই গত ১৭ মে আইনজীবীর মাধ্যমে সোহানা ও তাঁর ভাইয়ের নামে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। সাদ্দাম হোসেনের আইনজীবী এস. এম. মনজুরুল হক জানান,
”প্রলোভন ও প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অর্থ ১৫ দিনের মধ্যে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে বিবাদী পক্ষ অর্থ লেনদেনের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে আদালতে একটি চতুর জবাব দাখিল করেছে।”
এদিকে আইনি নোটিশ পাঠানোর ১০ দিন পর দুটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে সাদ্দামকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। দেশে ফিরে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে গত ২৮ মে কালীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ভুক্তভোগী সাদ্দাম।
বিয়ের প্রলোভনে এত বড় অঙ্কের অর্থ ও উপহার সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত তরুণী সোহানা খাতুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বরটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়। প্রতারণার এই অভিনব কৌশল এবং প্রবাসীর ‘সর্বস্বান্ত’ হওয়ার ঘটনাটি এখন কালীগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে
সম্পাদক প্রকাশক : জাহাঙ্গীর হোসেন
বার্তা সম্পাদক মিশন আলী
প্রধান উপদেষ্টা : সহকারী অধ্যাপক আনিসুর রহমান
অফিস: ৯ নম্বর সেক্টর উত্তরা ঢাকা ।
যোগাযোগ : ০৯৬৫৮-১৩৩৬৩৪
স্বাধীন বাংলা নিউজ 24.com লিমিটেড কর্তৃক প্রকাশিত।