ভারতের কলকাতায় ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে নৃশংসভাবে হত্যা ও মরদেহ গুমের মামলার অন্যতম প্রধান আসামি আমানুল্লা সাঈদ ওরফে শিমুল ভূঁইয়াকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গতকাল সোমবার (৮ জুন) হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। জামিনের পাশাপাশি শিমুল ভূঁইয়াকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করেছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, কারাবন্দি শিমুল ভূঁইয়ার পক্ষে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাকে সাময়িক বা অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
২০২৪ সালের ১৩ মে কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তৎকালীন সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করা হয়। এই নৃশংস ঘটনার পর ২০২৪ সালের ২২ মে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় একটি অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত সংসদ সদস্যের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।
মামলার তদন্ত চলাকালীন ২০২৪ সালের ৫ জুন দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছিলেন আমানুল্লা সাঈদ (যিনি শিমুল ভূঁইয়া, শিহাব ও ফজল মোহাম্মদ ভূঁইয়া নামেও পরিচিত)। জবানবন্দিতে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের মূল সমন্বয়ক হিসেবে নিজের সম্পৃক্ততা ও ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ তুলে ধরেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঢাকা ও কলকাতায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ভারতীয় পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—শিমুল ভূঁইয়া, তানভীর ভূঁইয়া এবং সেলেস্টি রহমান।
বাংলাদেশ ও ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ তদন্ত ও তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে মামলাটি বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মামলার প্রধানতম আসামির জামিন পাওয়ার বিষয়টি আইনি মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্পাদক প্রকাশক : জাহাঙ্গীর হোসেন
বার্তা সম্পাদক মিশন আলী
প্রধান উপদেষ্টা : সহকারী অধ্যাপক আনিসুর রহমান
অফিস: ৯ নম্বর সেক্টর উত্তরা ঢাকা ।
যোগাযোগ : ০৯৬৫৮-১৩৩৬৩৪
স্বাধীন বাংলা নিউজ 24.com লিমিটেড কর্তৃক প্রকাশিত।