পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা উপজেলার ৪ নং আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের হরিহরকাঠী গ্রামে দীর্ঘদিনের চলাচলের একটি শতবর্ষী রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে বিরোধ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ২০ থেকে ২২টি পরিবারের একমাত্র চলাচলের ওই রাস্তাটি বন্ধ করতে ফারুক হোসেনের পরিবার সেখানে পাকা টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত রাস্তার ওপর টয়লেট নির্মাণ কাজ শুরু হলে সোহাগ গং ও স্থানীয় বাসিন্দারা এতে বাধা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বিরোধের সৃষ্টি হয়।
পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আনা হলে উপজেলা পরিষদে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই দফা তদন্তও করা হয়েছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি। এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুমে ওই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে। বিষয়টি নিয়ে নেছারাবাদ থানা পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। এদিকে, বিরোধের একপর্যায়ে ফারুক হোসেন স্থানীয় এক সাংবাদিককে ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশিত সংবাদে ৪ নং আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ রুহুল আমিনকে জড়িয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়।
এর প্রতিবাদে শনিবার (১৬ মে) সকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন এলাকাবাসী ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। মতবিনিময় সভায় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ রুহুল আমিন বলেন, “ওই এলাকার রাস্তাটি নির্মাণের জন্য আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি। একটি পক্ষ ভুল বুঝে সাংবাদিকদের দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমাকে জড়িয়ে চায় চাই বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করিয়েছে। আমার রাজনৈতিক জীবনে একটি টাকাও চাঁদা নেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।
আমি কখনো অন্যায়ভাবে কোনো কাজ করিনি। স্থানীয় কেউ বলতে পারবে না যে আমি কোথাও থেকে চাঁদা গ্রহণ করেছি।” তিনি আরও বলেন, “যে সাংবাদিক সংবাদটি প্রকাশ করেছেন, তিনি যার পক্ষ থেকে সুবিধা পান তার পক্ষেই রিপোর্ট করেন। তার পেশা হয়ে গেছে মানুষকে বিভ্রান্ত করা ও হয়রানি করা।” ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাদাত হোসেন বলেন, “রাস্তাটি নির্মাণের জন্য আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছি।
কিন্তু একটি পক্ষ রাস্তা দিতে নারাজ। রাস্তা নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাঁদা গ্রহণের ঘটনা ঘটেনি। এ ধরনের মিথ্যা সংবাদে আমরা নিন্দা ও ধিক্কার জানাই।” অভিযোগের বিষয়ে ফারুক হোসেন বলেন, “রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। আমাদের নিজস্ব জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি কাউকে হয়রানি করতে চাই না। তবে আমাদের জমির অধিকারও রক্ষা করতে হবে। যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, তার অনেকটাই সত্য নয়।” হাতঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের তহসিলদার মোঃ বাদল হোসেন জানান, আমি তদন্তের অনুমতি পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, তবে এটি কোন রেকর্ডিয় রাস্তা নয়, সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের চলাচলের একটি পথ মাত্র। কিন্তু একটি পক্ষ পূর্ণ তদন্তের আবেদন করিলে সার্ভেয়ার অশোক রায় পরবর্তীতে তদন্ত করেন।