যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এক কর্মীর অবহেলার কারণে চিকিৎসাধীন ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকেলে হাসপাতালে সাময়িক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
মৃত শিশুটির নাম নাজমা। সে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার নুর ইসলামের মেয়ে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ মে থেকে নাজমা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিল। শনিবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনায় রেফার করেন চিকিৎসকরা।
অভিযোগ রয়েছে, খুলনায় নেওয়ার প্রস্তুতির সময় হাসপাতালের চতুর্থ তলার শিশু ওয়ার্ড থেকে নিচে নামানোর সময় পরিচ্ছন্নতা কর্মী মোছা. নাজমা বেগম (৫৫) শিশুটির নাকে সংযুক্ত অক্সিজেনের পাইপ খুলে বড়দের ব্যবহৃত একটি অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পরই শিশুটির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে।
শিশুটির বাবা নুর ইসলাম অভিযোগ করেন, অক্সিজেনের সংযোগ পরিবর্তনের পর তার মেয়ের অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে যায়। অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে আবার হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নুর ইসলাম বলেন, “আমার মেয়ের নাকে লাগানো অক্সিজেনের পাইপ পরিবর্তন করা না হলে হয়তো সে মারা যেত না।”
ঘটনার পর শিশুটির স্বজনরা হাসপাতালে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, এতে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তারা শিশুটির মরদেহ নিয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশে চলে যান।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।