• বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
কালীগঞ্জে রাতের অন্ধকারে অসহায় কৃষকের পানের বরজ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা  বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী প্রধান সহ ২৭ জন অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ আত্মসমর্পণ মালিয়াট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান অধ্যাপক মুসা করিম অভয়নগরে ট্রাক-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ১ যশোরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ সদস্যের কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও শার্শায় ইউপি সদস্যসহ ৪ জন আটক,ইয়াবা ও মোবাইল উদ্ধার আব্দুল গফুর একাডেমীর ফল উৎসব ও ফল বিতরণ কোটচাঁদপুর পৌরসভার ৪৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা কালীগঞ্জে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান

ঝিনাইদহে বিএনপি নেতার বাড়িতে মিলল সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানবীজ, অভিযোগের পর কৃষকদের মাঝে বিতরণ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : / ২২ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়িতে সরকারি বরাদ্দের ৮ বস্তা সার ও ২২ প্যাকেট ধানবীজ রাখার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই)   সকালে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে স্থানীয়রা তার বাড়িতে এসব কৃষি উপকরণ দেখতে পান। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সেখান থেকেই কৃষকদের মাঝে সার ও ধানবীজ বিতরণ শুরু করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানবীজ নির্ধারিত বিতরণস্থলে না এনে ব্যক্তিগত বাড়িতে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং কৃষি বিভাগকে অবহিত করেন।
মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মালিথা বলেন, “ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির বাড়িতে সরকারি বরাদ্দের সার ও বীজ কীভাবে এলো, তা আমার জানা নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান থেকেই কৃষকদের মাঝে এসব বিতরণ হওয়ার কথা।  খবর পেয়ে সকালে আমরা সেখানে যাই। পরে কৃষি কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি এসে সার ও বীজ বিতরণ করেন। এর আগেও সরকারি কম্বল ও শাড়ি বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল।”
থানা কৃষক দলের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “আব্দুল্লাহ এর আগেও সরকারি বরাদ্দের বিভিন্ন উপকরণ গোপনে বাড়িতে এনে রাখতেন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিতরণ করে বাকিগুলো বিক্রি করে দিতেন। এবার খবর পেয়ে সকালে আমরা গিয়ে সার ও ধানবীজ উদ্ধার করি। পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা এসে কৃষকদের মাঝে সেগুলো বিতরণ করেন।”
ভ্যানচালক জাহিদ হোসেন বলেন, “সোমবার আমাকে শৈলকূপা উপজেলা থেকে সার আনতে নেওয়া হয়। সেখানে লিটন নামে এক ব্যক্তি একটি কার্ড দিয়ে ৮ বস্তা সার, ২২ প্যাকেট ধানবীজ ও কিছু গাছের চারা তুলে দেন। পরে সেগুলো আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়িতে পৌঁছে দিই।”
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ মণ্ডল বলেন, “সোমবার উপজেলা থেকে ৮ বস্তা সার ও ২২ প্যাকেট ধানবীজ এনে বাড়িতে রেখেছিলাম। বৃষ্টির কারণে সেদিন বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। আজ সকালে ব্লক সুপারভাইজার উপস্থিত হওয়ার পর তাঁর তত্ত্বাবধানে কৃষকদের মাঝে বিতরণ শুরু করেছি। আশা করি আজকের মধ্যে বিতরণ হয়ে যাবে। “
মির্জাপুর ইউনিয়নের ব্লক সুপারভাইজার সাকিব হোসেন বলেন, “সকালে খবর পাই রামচন্দ্রপুর গ্রামে আব্দুল্লাহ মণ্ডলের বাড়িতে সরকারি সার ও ধানবীজ রয়েছে। সকাল ১১টার দিকে সেখানে গিয়ে সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানবীজ তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি কৃষি উপকরণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে চলা নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবিষ্যতে সরকারি বরাদ্দের সার, বীজসহ অন্যান্য কৃষি উপকরণ ব্যক্তিগত বাড়িতে না রেখে নির্ধারিত সরকারি স্থানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বিতরণ করা হোক।
তবে সরকারি বরাদ্দের সার ও ধানবীজ ব্যক্তিগত বাড়িতে কেন রাখা হয়েছিল এবং এতে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা