ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থানা রোড দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বছরের প্রায় ১২ মাসই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকে। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, কাদা ও ভাঙাচোরা পরিবেশ। ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, রোগীসহ হাজারো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগ নিরসনে রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (RUTDP)-এর আওতায় কালীগঞ্জ পৌরসভায় থানা রোড উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কালীগঞ্জ পৌরসভা এবং অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, কাজটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৮ কোটি ১৫ লাখ ২৪ হাজার ৫৫০ টাকা। তবে চুক্তিবদ্ধ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ কোটি ৫১ লাখ ৩৮ হাজার ১১৫ টাকা ৬৭ পয়সা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স তাজুল ইসলাম। গত ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ। ওই দিন থেকেই কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তা এখনও শুরু হয়নি। প্রকল্পের চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ করার সময়সীমা ১৫ মাস।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী কবির হাসান জানান, চলতি জুলাই মাসের ২০ তারিখের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমে সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। ড্রেন নির্মাণ শেষ হওয়ার পর মূল সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হবে। তিনি আরও জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে দ্রুত কাজ শুরু এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হয়।
অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে কাজ শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কার্যাদেশ প্রদান করলেই দুই-এক দিনের মধ্যে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তারা আশা করছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার ব্যাপারেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, থানা রোড দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয় এবং পথচারীদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, এই সড়কে বারবার বিটুমিন (পিচ) দিয়ে সংস্কার না করে টেকসই আরসিসি (রড-সিমেন্টের ঢালাই) রাস্তা নির্মাণ করা উচিত ছিল। তাদের মতে, ঢালাই রাস্তা অধিক মজবুত, দীর্ঘস্থায়ী এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও তুলনামূলক কম। এতে জনগণের করের অর্থ বারবার একই সড়ক সংস্কারে ব্যয় না হয়ে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত হতো। অনেক বাসিন্দা মনে করেন, প্রকল্পে পুনরায় পিচের রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্তের পরিবর্তে আরসিসি রাস্তা নির্মাণ করলে তা আরও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারত।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু থানা রোড নয়, পর্যায়ক্রমে কালীগঞ্জ পৌরসভার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কও টেকসই অবকাঠামোর আওতায় এনে উন্নয়ন করা হবে। একই সঙ্গে ঘোষিত প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানোর দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।