পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমদ সোহেল মনজুর।
তিনি বলেছেন, “শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই হবে না, প্রকৃত মানুষ হতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল বা এ প্লাস পেলেই হবে না, সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।”
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ আয়োজিত একাদশ শ্রেণির নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গত নির্বাচনে নেছারাবাদবাসী আমাকে যেভাবে নির্বাচিত করেছেন, তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম—‘সবার আগে বাংলাদেশ’, তেমনি ‘সবার আগে নেছারাবাদ’। নির্বাচনের সময় আমি এই কলেজে এসেছিলাম। তখন জানতে পেরেছিলাম, কলেজটির লেখাপড়ার মান ভালো। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আমি এমপি হতে না পারলেও এই কলেজের জন্য কিছু করার চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, “এই কলেজটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কলেজটি জাতীয়করণের জন্য শিক্ষার সংস্কৃতি সবদিক থেকে উপযুক্ত। পাশাপাশি কলেজটির প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নেও সহযোগিতা করার চেষ্টা থাকবে।”
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আহমদ সোহেল মনজুর বলেন, কলেজজীবনের প্রথম দিনটি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির এই দুই বছর ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরির সময়। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে।
তিনি বলেন, “মাদকের কারণে আমাদের যুবসমাজের একটি অংশ বিপথে চলে যাচ্ছে। তোমাদের প্রতি আমার আকুল আবেদন—ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কখনো মাদকের সঙ্গে জড়াবে না। মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করে, সমাজকে ধ্বংস করে। তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্য থেকেই একদিন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব আসবে। কেউ চিকিৎসক, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিক্ষক, কেউ আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবসেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।”
“শিক্ষা ছাড়া জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়। তবে শুধু সুশিক্ষিত হলেই হবে না, ভালো মানুষ হতে হবে। দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকতে
হবে। ছোট ছোট ভালো কাজের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে সবাইকে অংশগ্রহণ করতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের কলেজের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সপ্তাহে অন্তত একদিন শিক্ষার্থীদের নিজেদের কলেজ ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে অংশ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না থেকে বাসায় ফিরে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সন্ধ্যার পর কোচিং সেন্টার পরিচালনার বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
খেলাধুলায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চাও জরুরি। বাংলাদেশের মেয়েরা ক্রিকেট ও ফুটবলে ভালো করছে—এটি একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের প্রতিভা বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে।
শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের সরকারি অধ্যাপক মো. মাহমুদুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি উম্মে সালমা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশিক আহমেদ, শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মাসুম কামাল হাওলাদার, স্বরূপকাঠি পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. শফিকুল ইসলাম ফরিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন তালুকদার, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সভাপতি কাজী মো. কামাল হোসেন, সরকারি স্বরূপকাঠি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ওয়াহিদুজ্জামান মানিক, স্বরূপকাঠি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করা হয়।
একই দিনে বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রতিমন্ত্রী
এদিকে একই দিনে প্রতিমন্ত্রী নেছারাবাদের সরকারি স্বরূপকাঠি কলেজ ও ফজিলা রহমান মহিলা কলেজের নবীনদের সাথে পরিচিতি সবাই যোগ দেন। এছাড়া তিনি উপজেলার বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা পরিদর্শন, উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
নেছারাবাদের রাজবাড়ী ডিগ্রি কলেজের আইসিটি একাডেমি ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমদ সোহেল মনজুর।
পরে স্বরূপকাঠি পাইলট বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে আয়োজিত ‘আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর উদ্বোধন করেন তিনি।
দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।