কালীগঞ্জে ফাতেমা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অপচিকিৎসার অভিযোগ : প্রসূতির অবস্থা আশঙ্কাজন
স্বাধীন বাংলানিউজ:
/ ৩৬
Time View
Update :
মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
Share
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বহুল আলোচিত ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালে আবারো অপচিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। প্রসূতির সিজার অপারেশনের ২০ দিন পার হলেও সুস্থ না হওয়া এবং সংকটপন্ন শারীরিক অবস্থার কারণে স্বজনরা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনাতার এ অভিযোগ আনেন। অপরদিকে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি রোগীর বিদ্যমান শারীরিক সমস্যা হাসপাতাল বা বাড়িতে চিকিৎসা নিলেই ফিরবে সুস্থতা। এদিকে এ ঘটনায় প্রসূতির স্বামী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। উক্ত অভিযোগ সূত্রে যানা যায়, চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল দুপুরে কালীগঞ্জে অবস্থিত ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালে কোটচাঁদপুর উপজেলা লক্ষীকুন্ডু গ্রামের জুয়েল পাটোয়ারীর স্ত্রী সীমা খাতুন বৃষ্টি’র (২০) সিজার অপারেশন করা হয়।ডাক্তার প্রফুল্ল কুমার মজুমদার এবং ডাক্তার প্রবীর কুমার অপারেশনটি করেন। এরপর থেকে প্রায়ই রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে। যে কারণে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে চিকিৎসা দিয়ে আসছিল। রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হলে ১২ মে সকালে পুনরায় হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তি করে তিন ব্যাগ রক্ত তার শরীরে প্রদান করা হয়। এরপর অবস্থার উন্নতি না ঘটলে চিকিৎসক খুলনা মেডিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য এই রোগীকে রেফার করেন। ভুক্তভোগী রোগীর বাবা জালাল হোসেন বলেন, অপারেশনের পর থেকেই আমার মেয়ে অসুস্থ। প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে তার। এভাবে ব্লিডিং হলে বাঁচানো দায়। ডাক্তার আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কি দিয়ে কি করল বুঝে উঠতে পারছিনা। আপাতত উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় নিচ্ছি, তবে যদি কোন অঘটন ঘটে দায়-দায়িত্ব ডাক্তার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নেওয়া লাগবে।
ডাক্তার প্রফুল্ল কুমার মজুমদার জানান, অপারেশনে কোন ত্রুটি নেয়।নানা কারণেই ব্লিডিং হতে পারে। তবে রোগীর যে অবস্থা দেখলাম তাতে এই হাসপাতালে কিংবা বাড়িতে চিকিৎসা নিলে সেরে উঠবে। এসময় অপচিকিৎসার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, ফাতেমা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কালীগঞ্জে এই ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালে অপচিকিৎসার শিকার হয়ে ইতিপূর্বে নাকের পলিপ অপারেশনে কলেজছাত্র উৎসব ভট্টাচার্যের মৃত্যু হয়। সে সময় প্রশাসন প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয়। এই হাসপাতালে শান্তা বেগম এবং মরিয়ম খাতুন নামের প্রসূতির মৃত্যু হয় সিজারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে। লাভলী বেগম নামে আর একজন প্রসূতির মৃত্যু হলে প্রশাসন অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সিলগালা এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে ফাতেমা ক্লিনিককে। অর্থাৎ বারবার এই প্রতিষ্ঠানটিতে অপসিকিৎসার শিকার হয়ে প্রাণহানী ঘটলেও যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নেয় না কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার অরুণ কুমার বলেন, ফাতেমা প্রাইভেট হাসপাতালে অপচিকিৎসার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।