আজ ১২ মে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মনে নাড়া দেওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২৪ সালের এই দিনে ঝিনাইদহ-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দর্শনা-গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান। কিন্তু সেই যাত্রাই যে তার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।
ভারতে পৌঁছে কলকাতার এক পরিচিত বন্ধু গোপালের বাসায় ওঠেন তিনি। এরপর হঠাৎ করেই পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও রহস্যের ঘনঘটা। কয়েকদিন পর নিখোঁজের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
পরবর্তীতে ভারতীয় ও বাংলাদেশি তদন্ত সংস্থার অনুসন্ধানে একের পর এক বেরিয়ে আসে রোমহর্ষক তথ্য। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ গুমের চেষ্টা চালানো হয়। ঘটনাটিকে ঘিরে উঠে আসে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্র, অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যার নানা তথ্য।
ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষের কাছে আনার ছিলেন পরিচিত ও জনপ্রিয় মুখ। দীর্ঘদিন রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকা এই নেতার এমন মর্মান্তিক পরিণতি অনেককেই হতবাক করে দেয়। বিশেষ করে নিজ নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে বিষয়টি এখনো গভীর বেদনা ও রহস্যের নাম।
দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো মৃত্যুর রয়েছে রহস্য এবং হত্যাকাণ্ড নিয়ে জনমনে এখনো রয়েছে অসংখ্য প্রশ্ন। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী, হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং পুরো ঘটনার পেছনের অজানা অধ্যায় নিয়ে মানুষের কৌতূহল এখনো কমেনি। রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সময় সময় নতুন তথ্য সামনে এলেও পুরো রহস্যের জট এখনো পুরোপুরি খুলেনি।
২০২৪ সালের সেই ১২ মে তাই এখন শুধুই একটি তারিখ নয়—এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক আলোচিত, রহস্যঘেরা ও বেদনাবিধুর অধ্যায়।